“মমতার দিকেই তাকিয়ে আছে সারা দেশ, বিজেপিকে হটাতে তৃণমূলই ভরসা”, দাবি অভিষেকের



আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ২৩ অক্টোবর:
আগামী ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা বিধানসভায় উপনির্বাচন। গোসাবার বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের মৃত্যুর কারণে এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন সংগঠিত হচ্ছে। শনিবার গোসাবা বিধানসভার অন্তর্গত পাঠানখালি হাজি দেশারথ কলেজের মাঠে দলীয় প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা করতে আসেন তৃণমূল সাংসদ তথা সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একের পর এক বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি আগামীদিনে দেশের সমস্ত বিরোধী শক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জয়ন্ত নস্করের মৃত্যু হয়েছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে। মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এই বিধায়ক। সেই কারণেই এই উপ নির্বাচন বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি আরও বলেন, “এই নির্বাচন শুধুমাত্র সুব্রত মণ্ডলকে জেতানোর নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন দিল্লিতে বিজেপিকে ধাক্কা দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশকে বাঁচানোর জন্য নির্বাচন।” ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলাকে তিন দফায় ভাগ করে নির্বাচন করেছিল কমিশন। কোনও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এভাবে নির্বাচন করেছিল কমিশন। কিন্তু বিজেপির বারা ভাতে ছাই দিয়ে জেলার ৩০ টি আসন তৃণমূল জিতেছে বলে দাবি করেন অভিষেক।

নির্বাচনী জনসভায় গোসাবায় এসে দু’লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন করবে বলেছিল অমিত শাহ। কিন্তু নির্বাচন মিটতেই তাঁদের আর দেখা পাওয়া যায়নি। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের আগে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন একে একে সবই রূপায়িত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাই গোসাবা উপ নির্বাচনে বিজেপির বহিরাগত প্রার্থী নয়, বরং এলাকার মানুষ যাতে ঘরের ছেলে সুব্রতকে বিপুল ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করেন সেই আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “সারা ভারতবর্ষ কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারী সকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। আগামী দিনে দিল্লিতে বিজেপিকে হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র কান্ডারি। সেই কারণে যে যে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আছে সেখানে তৃণমূল নিজেদের সংগঠন ইতিমধ্যেই শক্তিশালী করতে শুরু করেছে।” তিনি আরও বলেন, আর যাই হোক মাথা নত করবো না। বহিরাগতদের কাছে। দিল্লির কাছে মাথা নত করবো না। ভাঙ্গা পা নিয়ে হুইল চেয়ারে করে দু’শোর বেশি আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়লাভ করেছে। বিজেপি অনেক চেষ্টা করেও রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে পারেনি বলে দাবি করেন অভিষেক।

ভারতবর্ষে বিজেপি এতোগুলো রাজ্যে ক্ষমতায় আছে, কিন্তু কেন তারা স্বাস্থ্য সাথী, কন্যাশ্রী, কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড দিতে পারছে না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। এঁরা বলছে শুধু আয়ুস্মান ভারত দেবে। কিন্তু আয়ুস্মান ভারত পেতে গেলে অনেক বিধি নিষেধ আছে। বাড়িতে সামান্য একটা মোটর সাইকেল, টিভি থাকলেও কেউ আয়ুস্মান ভারতের সুযোগ পাবেন না। কিন্তু বাংলার সমস্ত মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা পান বলে দাবি করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আমরা উন্নয়নের নিরিখে লড়াই করি। একদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, একদিকে যশ ঘূর্ণিঝড়। কেউ পাশে ছিল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া।” মাত্র চার মাস সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েই ইতিমধ্যেই গোয়া ও ত্রিপুরায় তৃণমূলের সংগঠন চালু করেছেন। কেন্দ্রের কালো কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হয়েছে তৃণমূল। একের পর এক সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছে বিজেপি সরকার। গ্যাসের দাম বাড়ছে, তেলের দাম বাড়ছে প্রতিদিন। তাই এই সরকারকে যে কোনও মূল্যে দিল্লি থেকে হটাতে হবে বলে আওয়াজ তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “দেড় বছরের মধ্যে বিপ্লব দেব ও বিজেপিকে ত্রিপুরা ছাড়া করবো। ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।” গোসাবার উন্নয়নের জন্য তিনি আছেন, এলাকার মানুষকে চিন্তা করতে বারণ করে অভিষেক বলেন, “আমি যা বলি তাই করি। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি। আপনারা উন্নয়নের পক্ষে রায় দিন। বাকিটা আমি বুঝে নেবো। এই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কিভাবে হবে সেই দায়িত্ব আমার। শুধু মনে রাখবেন এটা গোসাবার নির্বাচন নয়, ভারতবর্ষকে রক্ষা করার নির্বাচন। তৃণমূল প্রার্থী বিপুল পরিমাণ ভোটে না জিতলে ভারতকে বাঁচাতে পারবো না।”