রনডিহার ব্রাহ্মণ বাড়ির দুর্গা, কালি পুজোর পরদিন একসঙ্গে বিসর্জন দেওয়া হয়



জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৩ অক্টোবর: করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের অশনি সঙ্কেত। তার মাঝেও পুজোর আমেজে ভরে উঠেছে বাঙালির মন প্রাণ। আকাশে পেঁজা তুলোর মত মেঘ। তার মাঝে সূর্যের লুকোচুরি। দুর্গা পুজোয় প্রতিমা সাধারণত ৪ দিন থাকে। তবে বুদবুদের রনডিহার ব্রাহ্মণ বাড়ির দুর্গা প্রতিমা থাকে ২১ দিন। কালি পুজোর পরদিন দুর্গা ও কালি প্রতিমা একসঙ্গে বিসর্জন দেওয়া হয়। আর এই প্রায় একমাস পুজোর আনন্দ উৎসবে মেতে থাকে গোটা গ্রাম।

আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন সাধক অখিলেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বপ্নাদেশ মতো ষোড়শপচারে পুজো করতেন। সেই থেকে আজও ষোড়শ পচারে মা দুর্গা পুজিত হন সেখানে। এখন দুর্গাপুজোর সব দায়িত্ব পেয়েছেন দৌহিত্র সূত্রে চট্টোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, ভট্টাচার্য পরিবাররা।

চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বর্তমান প্রবীন সদস্য কালিদাস চট্টোপাধ্যায় জানান, “অতীতের রীতি মেনে ষোড়শপচারে এখনও পুজো হয়। সপ্তমীর দিন নবপত্রিকা স্নান হয়। নিরামিষ অন্নভোগ হয়। অষ্টমীর দিন কালো রংয়ের ছাগ বলি হয় এবং ওই বলির মাংস রান্না করে মা’য়ের প্রসাদে দেওয়া হয়। নবমীর দিন থেকে প্রতিদিন অন্নভোগ হয়। অন্নভোগ হয় তিন সের এক পোয়া সেদ্ধ চালের। তার সঙ্গে শাক, শুক্তো, ডাল, চাটনি সবই হয়। প্রতিদিন রুই মাছের তরকারি অবশ্যই থাকবে। সেটা মা দুর্গা যতদিন থাকবেন। রাতে লুচি সব্জি শীতল দেওয়া হয়।”

আরও দুই প্রবীন সদস্য হীরালাল মুখোপাধ্যায়, সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ জানান, “মা’য়ের প্রতিমা তৈরী করেন পার্শ্ববর্তী শালডাঙা গ্রামের তারাপদ সূত্রধর। বংশ পরম্পরায় তারাই করে আসছেন। প্রতিমায় কোনও ডাকের সাজ থাকে না। কাঠামোয় কোনও পেরেক পোঁতা চলবে না। একবার এক ঘটনা ঘটেছিল। বিসর্জনে দুর্গাপ্রতিমার পাঠাতন তোলা যায়নি এবং মা স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন–কালি পুজোর পরদিন একসঙ্গে যেন বিসর্জন দেওয়া হয় এবং দশমীর পর কালি পুজো পর্যন্ত মা’য়ের অন্নভোগ যেভাবে হোক দিলেই হবে। তখন থেকে কালিপুজোর পরদিন কালি প্রতিমা ও দুর্গাপ্রতিমা একসঙ্গে বিসর্জন দেওয়া হয়। কালি প্রতিমা যায় আগে, দুর্গাপ্রতিমা যায় পরে। কালিপুজোর দিন কালি পুজোর মতই একইরকম আচার মেনে মা দুর্গারও প্রসাদ দেওয়া হয়। কালি পুজোর দিন দুটো ছাগ বলি হয়। একটি মা দুর্গার ও অপরটি মা কালির এবং বলির মাংস রান্না করে প্রসাদে দেওয়া হয়।” এছাড়াও আতপ চালের অন্নভোগ, শাক, সুক্তো, কচু কুমড়োর তরকারি, ডাল, চাটনি পায়েস প্রসাদে দেওয়া হয়।”

পরিবারে বর্তমান আরও দুই সদস্য অশোক ব্যানার্জি ও জগন্নাথ ভট্টাচার্য জানান, “দুর্গাপুজোয় চার দিন চট্টোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায় ও ভট্টাচার্য পরিবারের সকলে একসঙ্গে মিলিত হয়। সব পরিবারের মহিলারা একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ভোগ রান্না করে। পুজোর চারটে দিন সকলে একসঙ্গে খাওয়া হয়। আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন সকলে।’