কুমারগঞ্জে আদিবাসী মহিলা খুনে ধর্ষণের তত্ত্ব খারিজ পুলিশের, ময়নাতদন্তের ভিডিও প্রকাশ্যে আনার দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল বিজেপির



পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৪ মে: ধর্ষণের তত্ত্বকে নস্যাৎ পুলিশের। ২০০ টাকার দাবি না মেটায় সৎ ভাই খুন করেছে দিদিকে, কুমারগঞ্জে আদিবাসী মহিলার অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার নিয়ে দাবি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের। শনিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এমন কথাই জানিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে। পালটা সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির দাবি, শাসক দলের চাপে পড়েই নির্দোষ ব্যক্তিকে সাজা দিচ্ছে পুলিশ। একইসাথে ময়নাতদন্তের ভিডিও প্রকাশ্যে আনার জোড়ালো দাবিও জানিয়েছে বিজেপির এসটি মোর্চার রাজ্য সভাপতি জুয়েল হাঁসদা। আদিবাসীদের উপর এমন অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে এদিন রাস্তায় নামে কয়েকশো আদিবাসী পুরুষ – মহিলারা। যাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় গোটা বালুরঘাট শহরে।

বৃহস্পতিবার রাতে কুমারগঞ্জের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরগঞ্জ বরবাসাতে বিএসএফ ক্যাম্প লাগোয়া একটি নির্জন ঝোপের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় এক আদিবাসী মহিলার অর্ধনগ্ন মৃতদেহ। যাকে ঘিরে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ তুলে সরব হন পরিবারের একাংশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা ও এলাকার বিজেপি সাংসদ। রাতভর রাস্তা আটকে বিক্ষোভও চলে এলাকায়। যদিও সেই তত্ত্বকে মানতে নারাজ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। তাদের দাবি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো ঘটনাই সামনে আসেনি। শুধু তাই নয়, পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ে বাড়িতে যাবার জন্য ২০০ টাকার দাবি না মেটায় ওই মহিলার সৎ ভাই রবিন কিস্কু তাকে পাথর দিয়ে আঘাত করে খুন করেছে। তাহলে বাড়ি থেকে সামান্য দূরের ওই নির্জন জঙ্গলে মহিলার দেহ পৌঁছালো কি করে ? আদিবাসী ওই মহিলার শরীরের পোশাকই বা কোথায় গেল? যে প্রশ্নের কোনো উত্তরই দিতে পারেননি পুলিশ সুপার। এদিন একটি সাংবাদিক বৈঠকে মৃতের ভাইয়ের রক্তমাখা জামা ও খুন করার জন্য ব্যবহৃত পাথরটি উদ্ধার করবার কথা পুলিশ সুপার জানালেও ঝোপের মধ্যে পোশাকহীন অবস্থায় কিভাবে এল মৃত ওই মহিলা, যে প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের এই দাবিকে নস্যাৎ করে জানিয়েছেন, ধৃত রবিন কিস্কুর ক্ষমতাই নেই একসাথে দশ টাকা গুনবার বা চিনবার। শুধু তাই নয়, তাদের দাবি মৃত দিদিকে ধরতে গিয়েই তার জামায় রক্ত লেগেছিল। এদিকে শনিবার ওই আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণ করেই খুন করা হয়েছে এমন দাবি তুলে বালুরঘাটের রাস্তায় নামে বিজেপির এসটি মোর্চা। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি জুয়েল হাঁসদার নেতৃত্বে কয়েকশো আদিবাসী পুরুষ মহিলারা বিক্ষোভ দেখায় জেলা পুলিশ সুপার অফিসের সামনে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী কাউকে আড়াল করতে এই ঘটনায় শাসকের পরামর্শে পুলিশ নির্দোষ ব্যক্তিকে সাজা দিচ্ছে। ময়নাতদন্তের ভিডিও প্রকাশ্যে আনার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তারা।

বিজেপির এসটি মোর্চার রাজ্য সভাপতি জুয়েল হাঁসদা বলেন, শাসকের পরামর্শে এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে আড়াল করতে চাইছে। দুশো টাকার জন্য কোন ভাই তার দিদিকে খুন করতে পারে না। ধর্ষন করেই খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের ভিডিও প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে জানিয়েছেন, বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য অভিযুক্ত কিছু টাকা চেয়েছিল তার দিদির কাছে। যা না পাওয়াতেই তাকে খুন করেছে। ধর্ষনের কোন ঘটনা নেই। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধৃতকে এদিন পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।