“মাওবাদীদের নাম করে বিরোধীদের জব্দ করার চেষ্টা করছে তৃণমূল”, দাবি শুভেন্দু অধিকারীর



অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১৪ মে: মাওবাদীদের নাম করে বিরোধীদের জব্দ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ঝাড়্গ্রাম শহরে সংকল্প মহামিছিলে যোগ দিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন শুভেন্দুবাবু।

এদিন বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সংকল্প মহামিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। ঝাড়গ্রাম শহরের হিন্দি মিশন মঠ থেকে এই মিছিল শুরু হয়ে কলেজ মোড় হয়ে হাসপাতাল রাস্তা ধরে মিছিল শেষ হয় শহরের পাঁচমাথা মোড়ে। এদিন মহা মিছিলের ডাক দেওয়া হলেও মিছিলে সেই ভাবে লোকজন দেখা যায়নি। এদিন মিছিলের মূল আকর্ষন ছিল বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু বাবুর উপস্থিতি। মিছিলে ছিলেন ঝাড়গ্রাম জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মনোজ পান্ডে, রাজ্য বিজোপির সম্পাদক উমেশ রায়, ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপি সভাপতি তুফান মাহাতো সহ প্রমুখ।

এদিন পাঁচমাথা মোড়ে মিছিল শেষে মাইক হাতে নিয়ে কিছুক্ষন বক্তব্য রাখেন বিজেপির নেতা কর্মীরা। পরে সাংবাদিকের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “রাজ্যে প্রত্যেক দিন বোমা ফাটছে, লোক মারা যাচ্ছে, নারী ধর্ষিতা হচ্ছে। মেট্রোর ঘটনায় কেন্দ্রের কোনো দায় বর্তায় না। এর জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইঞ্জিনিয়াররা যারা পড়াশোনা করে ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে তারা মেট্রোয় যে নকশা করে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন বলে এই সমস্যা হয়েছে। এটা মেট্রোর নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপদার্থতা। যাদের ক্ষতি হয়েছে তারা ক্ষতিপূরণ পাবেন।”

এছাড়া তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “১১ তারিখ এখানে পিসিমণির আসার কথা ছিল। তিনি আকাশে কালো মেঘ দেখে হেলিকপ্টারে চড়তে পারেননি। আামাদের ওই দিন অনুমতি দেওয়া হয়নি। নতুন করে ঝাড়গ্রামকে ঐক্যবদ্ধ করুন। ঝাড়গ্রামে ২০১৮ পঞ্চায়েত, ২০১৯ লোকসভাতে মোদীজির উপর ভরসা রেখেছিলেন। সেই ঝাড়গ্রামে কিশোর মান্ডির মতো নেতা আত্মবলিদান দিয়েছে ভোট পরবতি হিংসায়। সিবিআই তদন্ত করছে।আসুন বুথ, অঞ্চল, ব্লককে সংগঠিত করে আবার আমরা আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রত্যেক বুথে পদ্ম ফুল ফুটিয়ে আবার ঝাড়গ্রামকে পুরো গেরুয়াময় করে দিই।এটাই হোক আমাদের সংকল্প। হিংসা মুক্ত, ভয় মুক্ত ঝাড়গ্রামে মাওবাদীর নাম করে, তকমা দিয়ে আবার নতুন করে বিরোধীদের জব্দ করার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জঙ্গলমহলকে বঞ্চিত করেছেন। কুড়মি, আদিবাসীদের মধ্যে গোলমাল লাগিয়েছেন। হিন্দু ওবিসিদের বঞ্চিত করেছেন। কুম্ভকার, নাপিত, গোয়ালাদের বঞ্চিত করেছেন। এইভাবে সনাতনীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে ফায়দা তুলেছেন। আসুন গেরুয়া ঝান্ডার নীচে আমরা যারা মুর্তি পূজায় বিশ্বাসী করি, সনাতনীতে বিশ্বাস করি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাড়গ্রামকে আবার গেরুয়াময় করে তুলবেন। ৩০ জুন সংগঠনের এসটি শাখার পক্ষ থেকে হুল দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সহিত পালিত হবে। পুজার পরে বুথে বুথে পঞ্চায়েত নির্বাচনের কাজ শুরু হবে।
চাকরির জন্য সংগ্রাম করে শহিদ হওয়া পরিবার ঝাড়গ্রামে যারা কর্মসংস্থান পায়নি তাদের জন্য লাড়াইতে বিজেপি ছিল, আছে, থাকবে।