কাঁথিতে শিশিরের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক, বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারলেন দিলীপ ঘোষ






আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৩ মে: খাতায় কলমে এখনও তৃণমূলের সাংসদ শিশির অধিকারী। তবে কাঁথিতে সেই তৃণমূল সাংসদের অফিসেই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক সারলেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার কাঁথি আদালতে জামিন নিতে এসে কার্যত এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন দিলীপ ঘেষ। শিশিরের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকের পর দিলীপ মধ্যাহ্ন ভোজ সারেন শান্তিকুঞ্জে। জানান, “শিশির অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। ওনার স্ত্রী ও পরিবারের সবার কুশল জানলাম”। 

তবে রাজনীতির মহারথীদের এই সাক্ষাৎ পর্ব ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল তুলেছে তৃণমূল নেতৃত্বরা। কাঁথির তৃণমূল নেতা সুপ্রকাশ গিরির দাবি, “তৃণমূলের সাংসদ শিশির অধিকারী বরাবরই গেরুয়া দলের জন্য অনুগত প্রাণ, তা আবারও প্রমাণ হয়ে গেল। ইতিমধ্যে মানুষ ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আগামী লোকসভা নির্বাচনে অধিকারী পরিবার ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে”। যদিও শিশির সাক্ষাতে কোনও রাজনীতির আলোচনা ছিল না বলেই জানিয়ে গেলেন দিলীপ।

প্রসঙ্গত, বছর তিনেক আগে কাঁথিতে অমিত শাহের সভার পর বিজেপি নেতা কর্মীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল তথাকথিত তৃণমূল বাহিনী। আবার সেই মিটিংয়ের পরেই তৃণমূলের অঙ্গুলি হেলনে একাধিক গুরুতর ধারায় পাল্টা মামলা হয়েছিল দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। সেই সময় কাঁথির দোর্দন্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এখন সেই শুভেন্দু বিজেপিতে। আর দিলীপ ঘোষকে সেই মামলাতেই জামিন নিতে শুক্রবার কাঁথি আদালতে আসতে হয়।

তবে সেই ঘটনার জন্য শুভেন্দুর ওপরে কোনও খেদ নেই বলেও জানালেন দিলীপ।  আদালতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দিলীপ ঘোষ জানান, “সেই সময় যারা তৃণমূলের নেতা ছিলেন তারাই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, আবার মামলাও করেন। তবে সেটা তৃণমূলের স্ট্যান্ড ছিল। শুভেন্দুকে নিয়ে তাই কিছু বলব না”। তিনি জানান, “ওই মামলায় আমার নামে ওয়ারেন্ট বেরিয়ে গেছিল। আজ তাই জামিন নিতে কাঁথি আদালতে এলাম”। পরে আদালত থেকে বেরিয়ে দিলীপ পায়ে হেঁটে সটান চলে যান শিশিরের সাংসদ কার্যালয়ে। এই অফিসে বসেই বিজেপি নেতা কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক সেরে শান্তুকুঞ্জে দ্বিপ্রাহরিক আহারের জন্য চলে যান স্বপার্ষদ দিলীপ ঘোষ।






পূর্ববর্তী প্রবন্ধেসাইবার অপরাধ ঠেকাতে মেদিনীপুরে সেমিনার
পরবর্তী প্রবন্ধেপাঁশকুড়া কলেজে যোগ অনুশীলন শিবির