সাইকেল ফেরির আড়ালে মোটর বাইক চুরি চক্ৰ মেজিয়া থানার পুলিশের জালে



সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুড়া, ৫ অক্টোবর: সাইকেল করে ফেরি করার আড়ালে মোটর বাইক ও টোটো চুরি চক্ৰ ধরা পড়লো পুলিশের জালে। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মেজিয়া থানার পুলিশ বেশ কিছু খোয়া যাওয়া টোটো ও মোটর বাইক উদ্ধার করে বড়সড় সাফল্য পেল।

গোপন সূত্ৰে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৩ টি টোটো ও ২০টি মোটর বাইক উদ্ধার করে। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছে। সাইবার ক্রাইম ও মোবাইল সিম জালিয়াতি চক্র থেকে চারচাকা, বাইক ও মোবাইল উদ্ধার করে দুষ্কৃতিদের পাকড়াও করা এখন জেলা পুলিশের কাছে যেন খুব সহজ হয়ে গেছে। মোবাইল চোর ধরতে সোমবারই বাঁকুড়া জেলা পুলিশ “সন্ধান” নামে একটি সাইট চালু করেছে। এখানে অভিযোগ করার পরদিন থেকেই অভিযোগকারি ‘সন্ধান’ সাইট সার্চ করলেই তদন্তের গতি প্রকৃতি সব জানতে পারবেন। এতে নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তাতে জেলাবাসী খুশি। পুলিশ যে জনকল্যাণমুখী কাজ করতে পারে বাঁকুড়া পুলিশ প্রশাসন কার্যক্ষেত্রে তা করে দেখিয়েছে।

সম্প্রতি দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আইপিএস, আইএএস, ডব্লিউবিসিএস ইত্যাদি প্রশাসনিক স্তরের পরীক্ষাগুলির সাফল্য পেতে বিনা ব্যয়ে কোচিং সেন্টার চালু করেছে। এবার জেলা পুলিশের দুষ্কৃতী দমন নিয়ে আরেকটি বড়সড় সাফল্য পেল মেজিয়া থানার পুলিশ। এই শিল্পাঞ্চলে একটি দুষ্কৃতী চক্র বহুদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল টোটো আর বাইকের দিকে। মেজিয়া থানার পুলিশ ১৩ টি টোটো ও ২০ টি মোটরবাইক উদ্ধার করেছে।

জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে মেজিয়া থানায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন। সেখানে তিনি জানান, মাস খানেক আগে একটি চুরির গ্যাংকে আমরা লোকেট করি। কারণ অভিযোগ ছিল গঙ্গাজলঘাঁটি, মেজিয়া, শালতোড়া ও ছাতনা থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২টো টোটো ও ৪ টি বাইক চুরি যায়। এই গ্যাংটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১৪ টি টোটো ও ২০ টি বাইক চুরি করে। এটি একটি আন্ত:রাজ্য ছিনতাই চক্ৰ।

পুলিশ সুপার জানান, প্রথমে নাসিম আনসারি নামে এক দুষ্কৃতীকে আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের রানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর সেলিম শেখ নামে আরও ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে টোটো ও বাইকগুলি উদ্ধার হয়। পরে রানীগঞ্জ থানার বল্লভপুর থেকে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হল মহম্মদ সানি, আবিদ শেখ, গোর্খা কুরেশি। এই চক্রটি বাঁকুড়া জেলায় প্রবেশ করে স্থানীয় কোনও দুষ্কৃতির কাছে ইনফরমেশন নিত। তারপর সেইসব এলাকায় গিয়ে সাইকেলে করে মনোহারি দ্রব্য ফেরি করত। এই চক্রের ইনফরমার শালতোড়া থানার আসলাম শেখ। তাকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর শালতোড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ২ টি টোটো ও ৪ টি বাইক বাঁকুড়া জেলার। বাকি ১২ টি টোটো ও ১৬ টি বাইক রানীগঞ্জ, আসানসোল, ঝাড়খণ্ড এলাকার। এগুলি রাজ্যের ও ঝাড়খন্ড রাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে হস্তান্তর করা হবে।