ত্রৈলঙ্গস্বামী এক আশ্চর্য মহাযোগীর কাহিনী

শ্রীশ্রী ত্রৈলঙ্গ স্বামী, লোকনাথ বাবা এবং বেণীমাধবজী বহু সহস্র মাইল পদব্রজে অতিক্রম করে পৌঁছান চীন দেশের সীমানায়। সেখানে সীমানা রক্ষার প্রহরীরা অদ্ভুত দর্শন মানুষ দেখে বিস্মিত হন। কারণ তিন যোগীই সম্পূর্ণ উলঙ্গ, এবং বিশাল জটাজুট মণ্ডিত দীর্ঘ দেহে বরফের এক শ্বেত আবরণ তাদের করে তুলেছিল সত্যিই অসাধারণ মানুষ। খবর পৌঁছায় রাজার কাছে। বন্দী করে কারাগৃহে নিক্ষেপ করার আদেশ পান প্রহরীরা। শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় কারাগারে আনয়ন করা হয় তিন বন্দীকে, কেউই বাধা দেন না, বা প্রতিবাদ করেন না।
কিন্তু সশস্ত্র প্রহরীরা যা দেখেন তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তিন উলঙ্গ আশ্চর্য্য দর্শন মানুষগুলি একবার কারাগৃহের মধ্যে আবার পরক্ষণেই শৃঙ্খলমুক্ত অবস্থায় কারাগারের বাইরে মুক্ত অঙ্গনে অবাধে বিচরণ করছেন। অবিলম্বে রাজার কাছে খবর পাঠানো হয়, বিচক্ষণ রাজার বুঝতে অসুবিধা হয় না, নিশ্চয়ই তিব্বত কিংবা ভারতের উচ্চকোটী যোগীপুরুষকে ভুল করে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আদেশ করেন ক্ষমা প্রার্থনা করে যেন যোগী মহাপুরুষদের শৃঙ্খলমুক্ত করে সসন্মানে কারাগারের বাইরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শিবপুরী কাশী নগরীতে নতুন এসেছেন একজন ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট। যেমন তিনি রাশভারী, তেমনি তিনি শাসনকার্যে দারুণ কড়া। কাশীর মহিমা সম্পর্কে সাহেব অনেকের মুখেই অনেক কাহিনী শুনেছেন—তাই এই সুপ্রাচীন নগরী সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ খুবই বেশি। সেদিন তিনি নগর-পরিক্রমায় বেরিয়ে ঘুরতে ঘুরতে এসে হাজির হয়েছেন দশাশ্বমেধ ঘাটে। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল বিশালদেহী একজন নগ্ন মানুষ। সকলেই তাঁকে সচল বিশ্বনাথ বলে জানেন ও মানেন। তিনি তাঁর ইচ্ছেমত কাশীতে ঘুরে বেড়ান—ভক্তরা তাঁকে শিবজ্ঞানে প্রণাম করেন। সকলেই তাঁকে ‘ত্রৈলঙ্গস্বামী’ নামেই চেনেন। কিন্তু এই নতুন ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট তো তাঁকে চেনেন না। তিনি এই উলঙ্গ সন্ন্যাসীকে দেখে রীতিমত ক্রুদ্ধ হলেন। তাঁর রাজত্বে এমন অশিষ্ট অনাচার তিনি কিভাবে সহ্য করেন ? রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে সেই ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিলেন, ‘এই অসভ্য লোকটাকে এখনই গ্রেপ্তার করে ফটকে পুরে দাও।’ যেমন আদেশ তেমন কাজ। সন্ন্যাসীকে তখনই ধরে এনে হাজতে বন্দি করে রাখা হল। কাশীর অনেক গণ্যমান্য মানুষ বিভ্রান্ত ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেটকে বোঝালেন, ‘সাহেব, এমন কর্ম করবেন না। ইনিই সাক্ষাৎ শিব।’ কিন্তু ক্ষমতাগর্বী ইংরেজ শাসক এসব অনুরোধ বিন্দুমাত্রও কর্ণপাত করলেন না। পরদিন ভোরবেলা এই অদ্ভুত মানুষটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে হাজির হলেন হাজতের সামনে। সেখানে গিয়ে তো তাঁর চক্ষু চড়কগাছ। এমন দৃশ্য দেখা তো দূরের কথা, তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। তিনি দেখলেন হাজতে বন্দি সেই বিস্ময়কর মানুষ আর হাজতের ভিতরে নেই। তিনি ততক্ষণে হাজতের বাইরে বেরিয়ে এসে বারান্দায় এতটাই নিশ্চিন্ত মনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন—যেন তাঁর কিছুই হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেট একবার হাজতের দিকে তাকালেন, দেখলেন হাজতের দরজায় ইয়া বড় বড় দুটো তালা যথারীতি ঝুলছে—প্রহরীরাও যথারীতি পাহারা দিয়ে চলেছে। তবে এটা কেমন করে ঘটল ? ম্যাজিস্ট্রেট বিস্তর ভাবনা-চিন্তা করেও কোনও কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। প্রথমেই রক্তচক্ষু হয়ে তিনি প্রহরীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন, কিন্তু কেউই কিছু বলতে পারলেন না। সকলের কাছেই এটা এক অলৌকিক ঘটনা। ওসব কথা বিশ্বাস না করে ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই লোহার দরজা, হাজতের দেওয়াল, দরজা বন্ধ-তালা ও তার চাবি ইত্যাদি ব্যাপারে বারবার তন্নতন্ন করে অনুসন্ধান করলেন। কিন্তু বহু কসরৎ করেও কোনও কিছুই হদিশ করতে পারলেননা। তাহলে এই রহস্যময় কয়েদি হাজতের বাইরে এলেন কিভাবে ? ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেটের যুক্তি-বুদ্ধি সব যেন কেমন গুলিয়ে গেল। এবার তিনি গিয়ে দাঁড়ালেন ত্রৈলঙ্গস্বামীর মুখোমুখি, গম্ভীরস্বরে প্রশ্ন করলেন—যোগী, আমাকে কাছে কিছু গোপন করার চেষ্টা করো না—সত্যি কথা বলো কী করে তুমি হাজতের বাইরে এলে ? এক রহস্যময় হাসিতে ত্রৈলঙ্গ স্বামী উদ্ভাসিত হয়ে উঠলেন, সহজ সরলভাবে বললেন সারারাত ওই লোহার ঘরেই ছিলাম, কিন্তু সকালে আমার একটু বাইরে আসার ইচ্ছে হল—আর ইচ্ছে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বাইরে বেরিয়ে এলাম—কোনও বাধা কোথাও পেলাম না। এসব কথা ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বাস করলেন না। তিনি মনে মনে স্থির-নিশ্চয় হলেন যে, রক্ষীদের যোগসাজসেই এই যোগী বন্ধ হাজতের বাইরে চলে এসেছিল। তাই এবার আর তিনি কোনও ঝুঁকি নিলেন না। ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে আবার হাজতে ঢুকিয়ে দিলেন এবং নিজের হাতে হাজতের লৌহ-কপাটে একটার জায়গায় দুটো তালা ঝুলিয়ে দিলেন। শুধু তাই নয়, হাজতের চাবি জোড়া রেখে দিলেন নিজের কাছে। তারপর যথারীতি চলে গেলেন নিজের এজলাসে। একটু পরেই ঘটল এক অদ্ভুতকাণ্ড। এজলাসে নিজের আসনে বসে ম্যাজিস্ট্রেট বিস্ফারিত নয়নে দেখলেন, এবার আর হাজতের বাইরে নয়, তাঁরই আদালত কক্ষের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছেন বিশালদেহী উলঙ্গ সন্ন্যাসী। ইংরেজ সাহেব নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না— ভাবছেন, এটা কী করে সম্ভব হল। পকেটে হাত দিয়ে দেখলেন, হাজতের চাবি যথাস্থানেই আছে। এ যে একেবারেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের যখন দিশেহারা অবস্থা, ওদিকে ত্রৈলঙ্গস্বামীর চোখে-মুখে তখন দুষ্টুমি ভরা হাসি। মহাযোগী ত্রৈলঙ্গ স্বামী এবার ধীর পদক্ষেপে সাহেবের সামনে এসে দাঁড়ালেন, শান্তস্বরে বললেন, ‘সাহেব, তুমি অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই শুধু জড় ও জড়ের শক্তিই বোঝ। এই বিশ্ব সংসারের মধ্যেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এক মহাচৈতন্যলোক—তার খবর তোমার মোটেই জানা নেই। সেই চৈতন্যলোকের সঙ্গে যাঁর যোগাযোগ সাধিত হয়েছে, কোনও বন্ধনই তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।’ এবার সাহেবেরও চৈতন্য হল। তিনি আদেশ দিলেন, এই যোগীপুরুষের স্বেচ্ছা বিহারকে কেউই যেন বাধা না দেয়।

উজ্জয়িনীর মহারাজা কাশীধামে এসেছেন। একদিন কাশী ও রামনগর দর্শন করে তিনি নৌকায় এপারে ফিরছেন। হঠাৎ তিনি বজরায় বসে দেখলেন, এক বিশাল দেহী সন্ন্যাসী গঙ্গার জলে ভেসে বেড়াচ্ছেন। মহারাজার সঙ্গীদের মধ্যে কেউ কেউ ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে চিনতেন। তাঁরা মহারাজাকে ভাসমান সন্ন্যাসীর পরিচয়ও বললেন। তারপরই মহারাজা দেখলেন, সেই ভাসমান সন্ন্যাসী তাঁদের দিকেই ভাসতে ভাসতে আসছেন। ইতিমধ্যেই মহারাজাও সন্ন্যাসী সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠেছেন। তাই সকলে তাঁকে ধরাধরি করে বজরায় তুললেন। মহারাজা এবং তাঁর সঙ্গীরা ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে প্রণাম নিবেদন করলেন। ঠিক তখনই ঘটল বিপত্তিটা। ত্রৈলঙ্গ স্বামী ঠিক একটি সরল শিশুর মতোই একটা আচরণ করে বসলেন। তিনি মহারাজার কোমরে ঝোলানো মহামূল্যবান তরবারিটা নিয়ে খেলা করতে করতে আচমকা সেটাকে গঙ্গার জলে নিক্ষেপ করলেন। কেউ কিছু বোঝার আগেই কাণ্ডটা ঘটে গেল। এই ঘটনায় মহারাজা ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন, কিন্তু মহাযোগী রহস্যময় হাসিতে বজরার উপর লুটিয়ে পড়লেন। উজ্জয়িনী রাজের ওই তরবারি কোনও সাধারণ তরবারি ছিল না। ইংরেজ সরকার বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন হিসেবে এই তরবারি মহারাজাকে দিয়ে ছিলেন। এমন এক তরবারি এভাবে হারিয়ে যাওয়ায় মহারাজা এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন যে, সকলের সব অনুরোধ অগ্রাহ্য করে তিনি সন্ন্যাসীকে কঠোর শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। ইতিমধ্যে বজরা নৌকা কাশীর ঘাটে এসে ভিড়েছে। মহারাজা তখনও তর্জন-গর্জন করে এই নাঙ্গা সাধুকে শাস্তি দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলেছেন। ত্রৈলঙ্গ স্বামীর কিন্তু কোনও ভাবান্তর নেই। তিনি একেবারেই নির্বিকার। তারপর তিনি একটু হেসে তীরবর্তী গঙ্গার জলে নিজের হাতটা ডুবিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাতে উঠে এসেছে দুটো তরবারি—দুটোই ঠিক মহারাজার তরবারির মতই। যোগীবর এবার মহারাজকে বললেন, ‘মহারাজ, আপনি চিনে নিন—কোনটা আপনার।’ মহারাজ পড়লেন মহা সমস্যায়—দুটোই যে একরকম। তখন যোগীবর বললেন, ‘মূর্খ, তুমি নিজের জিনিসটাই চিনে নিতে পারছ না। যে বস্তু তোমার নয়, তোমার সঙ্গে যাবে না—তার জন্য এত ক্রোধ ?’ এবার ত্রৈলঙ্গস্বামীই মহারাজের তরবারিটা তাঁর হাতে তুলে দিলেন। অপরটা নিক্ষেপ করলেন গঙ্গা গর্ভে।

১৬০৯ সালে অন্ধ্রদেশের ভিজিয়ানাগ্রামে মহাযোগী শ্রীশ্রী ত্রৈলঙ্গ স্বামী মহারাজের আবির্ভাব। ত্রৈলঙ্গস্বামীর পিতা নরসিংহ রাও স্ত্রী বিদ্যাবতীর কাছ থেকে সন্তান যখন পেলেন না তখন তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন। সেইসময় অত্যন্ত ব্যাথাতুর বিদ্যাবতীর করুণ মিনতিতে ভগবান শিব কৃপা করেন। শিবলিঙ্গ থেকে জ্যোতি নির্গত হয়ে বিদ্যাবতীর উদরে প্রবেশ করে গর্ভ সঞ্চার হয়। বিদ্যাবতীর গর্ভে ত্রৈলঙ্গস্বামীর জন্ম হয়। শিবের কৃপায় জন্ম বলে নবজাতকের নাম রাখা হল শিবরাম। শিবরাম ছেলেবেলায় গম্ভীর, শান্ত ও উদাসীন প্রকৃতির ছিলেন। পিতামাতার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সম্পত্তি অনুজ শ্রীধরকে দিয়ে শিবরাম গ্রামের শ্মশানের এক পাশে একটি কুটির তৈরি করে সাধনা করা শুরু করেন। ত্রৈলঙ্গ স্বামীর বয়স যখন ৭৮ বৎসর তখন সহসা সেখানে ভগীরথানন্দ সরস্বতী নামক এক যোগী সন্ন্যাসী আবির্ভূত হন। ত্রৈলঙ্গ স্বামী ঐ যোগীর সাথে ঐ স্থান ত্যাগ করে পুষ্কর তীর্থে এসে তাঁর নিকট সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। সন্ন্যাস গ্রহণ করার পর ত্রৈলঙ্গ স্বামীর নাম হয় গণপতি সরস্বতী।

সাধনার সুদীর্ঘ ধারায় অবগাহন করে ১৮৪৪ সালের মাঘ মাসে তিনি এসে উপনীত হলেন শিবপুরী কাশীতে। তেলঙ্গ দেশ থেকে আগত এই সন্ন্যাসীকে কাশীর মানুষ ত্রৈলঙ্গ স্বামী নামেই অভিহিত করতে থাকেন এবং ওই নামেই তিনি সর্বত্র পরিচিত হন। তাকে সকলেই ‘সচল বিশ্বনাথ’ বলে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। কাশীতে যে সকল দর্শনার্থী আসতেন, তাঁরা সকলেই বিশ্বনাথ, অন্নপূর্ণা, দুর্গামন্দির, দশাশ্বমেধ ও মণিকর্নিকা ঘাট দর্শন করেই ছুটতেন ‘সচল বিশ্বনাথ’কে দর্শন করতে।

যোগী-ঋষিগণ কখনও সাধারণ মানুষের মত জীবন-যাপন করেন না। ত্রৈলঙ্গ স্বামী সব সময় উলঙ্গ হয়ে চলতেন। তবে একবার কাশীতে সাধক বামাক্ষাপা তাঁর দর্শনে এলে তিনি একখণ্ড বস্ত্র পরিধান করেছিলেন।

একদিন মণিকর্ণিকার ঘাটে ত্রৈলঙ্গ স্বামীর সাথে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের সাক্ষাৎ ঘটে। তখন ত্রৈলঙ্গ স্বামী মৌনভাব অবলম্বন করেছিলেন। তাই রামকৃষ্ণদেব তাঁকে ইশারায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন ঈশ্বর এক না অনেক। তখন তিনি ইশারাতেই বুঝিয়ে দেন, সমাধিস্থ হয়ে দেখতো-এক, নইলে যতক্ষণ আমি, তুমি, জীব, জগৎ ইত্যাদি নানা জ্ঞান থাকে ততক্ষণ ঈশ্বর অনেক। শ্রীরামকৃষ্ণদেবকে ত্রৈলঙ্গ স্বামী উপহার হিসাবে একটি নস্যির কৌটা দেন। উক্ত কৌটাটি তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে ভোজনান্তে দক্ষিণা হিসাবে রাজ প্রাসাদ থেকে এনেছিলেন। ঠাকুর কৌটাটি পেয়ে ঠিক করেন এতে মায়ের সিঁদুর রাখা যাবে।

একদা লোকনাথ ব্রহ্মচারী ও বেণীমাধব গঙ্গোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের গুরুদেব ভগবান গাঙ্গুলী কাশীতে আসেন। তখনও দুই শিষ্যের যোগশিক্ষা সম্পূর্ণ হয়নি। গুরুদেব ভগবান গাঙ্গুলী তাঁর দুই প্রিয় শিষ্যকে ত্রৈলঙ্গ স্বামীর উপর অর্পণ করে যোগবলে দেহরক্ষা করেন। তাঁদের পরবর্তী শিক্ষা দেন কাশীর সচল বিশ্বনাথ ত্রৈলঙ্গ স্বামী। তাঁদের শিক্ষা সমাপ্ত হওয়ার পর ত্রৈলঙ্গস্বামীর সাথে তাঁরা দেশ ভ্রমনে বেরিয়ে পড়েন। তাঁরা বহুদেশ ঘুরে আবার ফিরে আসেন কাশীধামে। ত্রৈলঙ্গ স্বামী বলেছেন লোকনাথ হল আমার হৃদয়ের অংশ, সে তো ক্ষেপা শিব।

জীবনের শেষভাগে ত্রৈলঙ্গস্বামী পঞ্চগঙ্গার ঘাটে বসেই দিন কাটাতেন। কাছেই ছিল মঙ্গল ভট্ট নামে এক মারাঠি ভক্ত ব্রাহ্মণের ছোট্ট একটা বাসা। প্রায় সাত বছর সাধ্য-সাধনার পর মঙ্গল ভট্ট নিজের বাসায়, এই মহাযোগীকে আনতে সক্ষম হয়ে ছিলেন। ১৮৮৯ সালে ২৮০ বৎসর বয়স অতিক্রম করার পর পৌষ মাসের শুক্লা-একাদশীর দিন ত্রৈলঙ্গ স্বামী নিজ ইচ্ছায় মহাসমাধি যোগে কাশীতেই নরলীলা সাঙ্গ করেন।

(সংগৃহীত)