বাঁচিয়েছেন সলমান খান থেকে সঞ্জয় দত্তকে, আরিয়ানের উকিল সতীশ মানেশিন্ডে আসলে কে


বলিউড (Bollywood) বাদশা শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) ছেলে আরিয়ান খান (Aryan Khan) মাদক মামলায় জড়িয়ে এনসিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে গ্ল্যামার দুনিয়াতে। তবে বলিউডে এমন হইচই এর আগেও বহুবার উঠেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের আদালতের চক্কর থেকে বাঁচিয়ে এনেছেন মুম্বাইয়ের অপরাধী আইনজীবী সতীশ মানেশিন্ডে (Satish Maneshinde)।

৫৬ বছর বয়সী এই আইনজীবী আদালতে প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন বিখ্যাত অপরাধী আইনজীবী রাম জেঠমালানির তত্ত্বাবধানে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তার কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে ছিলেন। এখন বলতে গেলে বলিউডের তাবড় তাবড় অভিনেতা এবং অভিনেত্রী, যারা কোনও না কোনওভাবে আইনের জটিলতায় জড়িয়েছেন, তাদের সকলের আশা-ভরসাস্থল তিনি!

ছেলে এনসিবির হাতে ধরা পড়তেই শাহরুখ খানও তাই সাততাড়াতাড়ি তাকেই ছেলের জন্য নিয়োগ করে ফেললেন। ইতিমধ্যেই আদালতে আরিয়ানের হয়ে জোর সওয়াল জবাব করেছেন তিনি। বাদশা পুত্রকে আদালতের ঘেরাটোপ থেকে বের করে আনার জন্য ঘুঁটি সাজাচ্ছেন সতীশ মানেশিন্ডে। এর আগে সঞ্জয় দত্ত, রিয়া চক্রবর্তী, সালমান খানের হয়ে আদালতে লড়াই করার অভিজ্ঞতা আছে তার।

সতীশ মানেশিন্ডে কে?

মুম্বাই হামলার ঘটনায় যখন সঞ্জয় দত্তের নাম জড়িয়ে গিয়েছিল তখন এই অপরাধী আইনজীবিকে নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই সময় আদালতে মোক্ষম সওয়াল জবাব করে সঞ্জয় দত্তের জামিন করে দিয়েছিলেন সতীশ। তারপরই কার্যত তিনি লাইম লাইটে আসেন। পরবর্তী দিনে সঞ্জয় দত্তের আইনি দলের সদস্যও ছিলেন তিনি। ২০০০ সালে বেআইনি অস্ত্র আইন মামলা থেকে সঞ্জয়কে রক্ষা করতে তার ভূমিকা ছিল।

সতীশ মানেশিন্ডে দ্বিতীয়বারের জন্য সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসেন যখন তিনি সালমান খানের হিট অ্যান্ড রান মামলার দায়ভার নেন। ২০০২ সালের ওই মদ্যপান এবং ড্রাইভিং হিট অ্যান্ড রান মামলা থেকেও সালমান খানকে রক্ষা করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, হালফিলে বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার প্ররোচনা এবং অর্থপাচার মামলার আইনজীবী ছিলেন তিনি।

বর্তমানে তারকাপুত্র আরিয়ান খানের মামলাটি তিনিই দেখছেন। আরিয়ানের বিরুদ্ধে ১৩ গ্রাম কোকেন, ৫ গ্রাম এমডি, ২১ গ্রাম চরস এবং ২২টি এমডিএমএ ও তার সঙ্গে নগদ ১.৩৩ লাখ টাকা জব্দ করার মামলায় জড়িয়েছে। যদিও মানশিন্ডের দাবি, “তার (আরিয়ান) কাছ থেকে কোনও অপরাধমূলক উপাদান উদ্ধার করা হয়নি। সেবনের কোনও দখল বা প্রমাণ নেই।”

তিনি আরও দাবি করেন, আরিয়ানের নামে কোনও ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই, সে রেইডে পালানোর চেষ্টা করেনি, জামিনযোগ্য ধারাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। মানেশিন্ডের দাবি, আরিয়ানের অপরাধ জামিনযোগ্য না হলে এনসিবিকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ দিতে হবে। অন্যের কাছে পাওয়া ড্রাগসের জন্য আরিয়ানকে দায়ী করা যাবে না।

যদিও এনসিবির তরফের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেলের সাফ দাবি, আরিয়ানের ফোনে ড্রাগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের যোগ থাকতে পারে এর সাথে। আরিয়ান জানিয়েছে, আমন্ত্রণ পেয়ে সে পার্টিতে হাজির হয়েছিল। কে এবং কেন তাকে আমন্ত্রণ জানালো? প্রশ্ন তোলে এনসিবি।

আরিয়ানের আইনজীবীর যুক্তি, “জাহাজে ড্রাগ বিক্রি করবার প্রয়োজন আরিয়ান খানের নেই। কেন সে ওই জাহাজে উঠেছিল, তা জানার কোনও দরকার নেই এনসিবির। আরিয়ান চাইলে পুরো জাহাজটাই কিনে নিতে পারে”। তার এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। যদিও শেষমেষ সব দিকে বিচার করে আরিয়ানের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দেয় আদালত।