উত্তমকুমারের কন্ঠে মহালয়া শুনে ‘শুধু ইট ছোড়া বাকি ছিল’, রাতারাতি ফেরাতে হয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে


মহালয়ার (Mahalaya) ভোরে যার কন্ঠস্বর শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে বসে থাকেন শ্রোতারা তিনি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র (Birendra Krishna Bhadra)। তাকে ছাড়া মহালয়া যেন কল্পনাও করতে পারে না আপামর বাঙালি। তবে বেশ কয়েক বছর পরপর তাঁর কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ (Mahishasura Mardini) শুনতে শুনতে নাকি একঘেয়েমি এসেছিল শ্রোতাদের! তাই স্বাদ বদলের জন্য ডাক পড়লো উত্তম কুমারের (Uttam Kumar)।

সাল ১৯৩২। ষষ্ঠীর ভোরে রেডিওতে আকাশবাণীর তরফ থেকে সম্প্রচার করা হয় চণ্ডীপাঠ। নেপথ্যে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। অবশ্য তার ঠিক এক বছর আগেই অন্নপূর্ণা এবং বাসন্তী পূজার মাঝখানে ‘দেবী বসন্তেশ্বরী’র সম্প্রচার দিয়ে কার্যত মহিষাসুরমর্দিনীরই রিহার্সাল শুরু হয়।

১৯৩১ সাল থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত টানা বীরেন্দ্র কৃষ্ণের গলায় লাইভ অনুষ্ঠান শুনেছেন শ্রোতারা। ১৯৪৭ এ সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার কারণে মহিষাসুরমর্দ্দিনীর লাইভ করা যায়নি। সেই বছরই কার্যত অনুষ্ঠান রেকর্ড করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে ১৯৭৬ এ ভোল পাল্টে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র জায়গায় লাইভ সম্প্রচার হয় ‘দেবী দূর্গতিহারিণী’র। নেপথ্যে, বাঙালির ম্যাটিনি আইডল উত্তম কুমার।

কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছিল, বীরেন্দ্র কৃষ্ণের জায়গা একমাত্র উত্তম কুমারই নিতে পারেন। তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। সংবাদপত্রে বিস্তর লেখালেখি, উত্তম কুমার, বসন্ত চৌধুরী, লতা মঙ্গেশকরদের মতো তারকা, ঝকঝকে বিজ্ঞাপন, সে যেন রীতিমতো এক যজ্ঞের আয়োজন। তবে লাইভ সম্প্রচারের দিন যজ্ঞ হয়ে উঠল রীতিমতো দক্ষযজ্ঞ! নামিদামি তারকারাও শেষ রক্ষা করতে পারলেন না।

উত্তম কুমারের জীবনে হয়তো এই একটিই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কেরিয়ারে তিনি শুধু একজনের কাছেই হেরেছেন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনার পর শ্রোতারা যেন কিছুতেই আর উত্তম কুমারের ‘দেবী দূর্গতিহারিণী’কে মিলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। শ্রোতাদের মধ্যে রীতিমতো ধুন্ধুমার কান্ড বেঁধে যায়।সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী শোভন পাঠকের কথায়, ‘শ্রোতারা সেদিন শুধু ইঁট ছুড়তেই বাকি রেখেছিলেন!’

শ্রোতাদের অসন্তোষ টের পেয়েই ভুল শুধরে নেয় কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, সেই বছরই ষষ্ঠীর দিনে মহিষাসুরমর্দিনীর পুরনো রেকর্ডিং আবার বেজে ওঠে রেডিওতে। তবে খানিক শান্ত করা গিয়েছিল শ্রোতাদের। তারপর থেকে আর ‘নতুন এক্সপেরিমেন্ট’ করতে যায়নি আকাশবাণী। প্রায় ৯০ বছর ধরে একটানা প্রতিবছর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র রেকর্ডিংটাই তাই শুনতে পছন্দ করছেন শ্রোতারা।