বন্ধুত্বের জন্যই বেঁচেছে প্রাণ, অমিতাভ বচ্চন না থাকলে কোমায় থাকতেন গব্বর সিং


অনস্ক্রীন জয়-গব্বরের বনিবনা হয়নি কখনও। এমনকি ‘শোলে’তে (Sholay) গব্বরের সঙ্গী-সাথীদের হাতে প্রাণ গিয়েছিল জয়ের। তবে পর্দার বাইরের চিত্রটা ছিল একেবারেই আলাদা। ‘জয়’ যদি না থাকতো, তাহলে হয়তো প্রাণে বাঁচতোই না ‘গব্বর’! অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan) জন্যই প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন আমজাদ খান (Amjad Khan)। এক প্রকৃত বন্ধু হিসেবেই বন্ধুর বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অমিতাভ। সেদিনের সেই ঘটনাটা অনেকেরই অজানা।

পর্দাতে বরাবর হিরো-ভিলেনের সম্পর্ক হলেও আদতে কিন্তু অমিতাভ বচ্চন এবং আমজাদ খান একে অপরের খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। ‌তারা একসঙ্গে প্রায় ১৫টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। বন্ধুত্বের খাতিরে আমজাদের প্রাণও বাঁচিয়েছেন অমিতাভ। তখন ‘গ্যাম্বলার’ ছবির শ্যুটিং চলছিল। এক গুরুতর পথ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন আমজাদ খান। শারীরিক অবনতি হতে হতে কোমায় চলে গিয়েছিলেন তিনি।

amjad-khan-actor-sholay

এমনিতে শুটিং সেটে বরাবর আগে পৌঁছানোর অভ্যাস ছিল আমজাদের। তবে কোনও কারণে সেদিন শুটিংয়ে পৌঁছানোর জন্য ট্রেন বা ফ্লাইট ধরতে পারেননি তিনি। অগত্যা গাড়ি করেই শুটিং সেটে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেন আমজাদ খান। সঙ্গে ছিল তার গোটা পরিবার। গোয়া পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিনেতা। তবে গোয়া থেকে কয়েক কিলোমিটার এগোতেই তার গাড়ি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে।

এক্সিডেন্টের পর ওই এলাকার মানুষেরা অভিনেতা এবং তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে গোয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরিবারের সকল সদস্যদের অবস্থা ভালো থাকলেও আমজাদ খানের ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। যে কারণে তার মধ্যে রক্তের ঘাটতি দেখা দেয় এবং তিনি কোমাতে চলে যান। বন্ধুর এই বিপদের খবর শুনেই শুটিং সেট ছেড়ে গোয়ার হসপিটালে হাজির হন অমিতাভ।

সেদিন আমজাদ খানের জন্য হাসপাতালের কাগজে সই করতে রাজি ছিলেন না কেউ। অমিতাভ নিজে থেকে এগিয়ে এসে বন্ধুর দায়িত্ব নেন। এমনকি তিনি যখন জানতে পারেন তার বন্ধুর রক্ত প্রয়োজন তখন তিনি আমজাদকে বাঁচাতে রক্ত দিতেও দুবার ভাবেননি। সেদিন ভগবানের দূত হয়েই যেন আমজাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন অমিতাভ।

এই গোটা ঘটনাটা একবার একটি রেডিও টক শোতে অংশগ্রহণ করে অন্নু কাপুর শ্রোতাদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। যদি সেদিন অমিতাভ রক্ত না দিতেন তাহলে আমজাদ খান কোমাতেই চলে যেতেন। হয়তো বা তার প্রাণ সংশয়ও হতে পারতো। একজন বন্ধু হিসেবে বন্ধুর এমন মর্মান্তিক পরিণতি কী করেই বা দেখতেন অমিতাভ? তাই তিনি সেদিন ছুটে এসেছিলেন আমজাদের পাশে দাঁড়াতে।